Google

গায়ে হলুদ এ নারীর সাজ

Written on:সেপ্টেম্বর 15, 2013
Comments
Add One

gaye holud photoনাফিসা হাসান : গায়ে হলুদ বাঙালির সবচেয়ে বর্ণাঢ্য সামাজিক উৎসবের অন্যতম। হলদি-মেহেদি বেটে, মিষ্টিমুখ করে গায়েহলুদের কত- না আয়োজন! তবে হলুদ বরণ কন্যার সাজে সব সময় হলুদ রঙই থাকবে, তা নয়। এখন দেখা যায় গায়েহলুদে থিমভিত্তিক সাজের বাহার। হলুদ, লাল, কমলা—এসব রঙের সঙ্গে সবুজ, সাদা, বেগুনি রংও প্রাধান্য পাচ্ছে। ফ্যাশন ডিজাইনার ও রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খানের মতে, “পুরোনো আমলের জমিদারবাড়ির সাজ, রবীন্দ্রনাথ বা শরৎচন্দ্রের কোনো চরিত্রের সাজ হতে পারে গায়েহলুদে। ফিউশন সাজ বিয়ে বা বউভাতে চলতে পারে। গায়েহলুদে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজটাই মানানসই” ।
একসময়ের হলুদ শাড়ি লাল পাড় আর গাঁদা ফুলের গয়নার চল এখন কমে গেছে। গায়েহলুদের সাজে এসেছে অনেক পরিবর্তন। গায়ে হলুদে জামদানি শাড়ির জনপ্রিয়তা এখন সবচেয়ে বেশি। অনেকে কাতানও পরছেন। এখন চলছে মাল্টি জুট কাতানের চল। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কনের পাশাপাশি সবাইকে দেখা যায় রঙ বেরঙের শাড়ি ও কামিজ পরতে। একটু বৈচিত্র্য-পিয়াসীরা গরদ বা গ্রাফিক্যাল প্রিন্টের শাড়ি ও কামিজ পরছেন। জামদানির রঙটা অনেক রকম হচ্ছে। হলুদ, লাল, সবুজ, নীল থেকে সাদা, বেগুনি পর্যন্ত। শাড়ির পাড়ে, জমিনে ছোট লাল বুটি থাকতে পারে। চওড়া পাড়ের সুতি শাড়ির জনপ্রিয়তা বছরজুরেই চলছে । শাড়ির ঢংটা একটু পুরোনো হলেও এর সঙ্গে সাজ, গয়না হচ্ছে একদমই অন্য রকম। সাদা কাতানে সোনালি বা লাল পাড়—এমন শাড়িও দারুণ চলছে । পাশাপাশি সিল্ক, মসলিনও পিছিয়ে নেই। সাথে ব্লাউজটাও হবে বাহারি। কন্ট্রাস্ট ব্লাউজেরই চল এখন। কামিজ কাটের ব্লাউজ এখন বেশ চলছে। লাল বা কমলা জামদানির সঙ্গে পরা যেতে পারে সাদা গ্রাফিক্যাল প্রিন্টের কামিজ কাটের ব্লাউজ। সাদা রংটা ভালো লাগবে টিয়া বা সবুজ রঙের শাড়ির সঙ্গেও। ফিরোজা বা হলুদ শাড়ির সঙ্গে চলতে পারে ফিরোজা ব্লাউজ। সরষে-হলুদ রঙটাও ভালো লাগবে। শাড়িতে এই রঙের প্রিন্ট থাকতে পারে বা ব্লাউজে। সাদা রঙের যেকোনো শাড়ির সঙ্গেই বেছে নেয়া যায় লাল ব্লাউজ । রুপার তৈরি খোঁপার কাঁটা, বিছা ও নূপুর পরা যেতে পারে গায়েহলুদে। আঁচলের শেষ প্রান্তে ঝোলানো যায় বাহারি চাবির গোছা। বটুয়া থাকতে পারে হাতে।
হলুদের সাজে ফুলের গয়নার ধরনে পরিবর্তনটা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। নতুন অনেক রকম ফুল দিয়ে বানানো হচ্ছে গয়না। বছর তিনেক ধরে শুকনা ফুল রমরমা চললেও এখন তাজা ফুলের জনপ্রিয়তা বেশ। তাজা ফুল বলতে অর্কিডই এখন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বেলি ও গোলাপ তো আছেই। বছরের বেশিরভাগ সময়ে বেলি আর রঙ্গনের গয়না পরতে বেশ দেখা যায়। চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ের মাধবি নামের ফুল দোকানের এক বিক্রেতা জানান, “এখন নানা রঙের অর্কিড, ক্রিসেনথিমাম, কার্নেশান, জারবারা, গ্লাডিওলাস পাওয়া যাচ্ছে। সবুজ, বেগুনি রঙের তাজা ফুলও এখন আমরা দিতে পারছি। অনেকে আবার গয়না তৈরিতে ফুলের সঙ্গে পাতাও যোগ করছেন। শুকনা ফুলের মধ্যে সোনালি, হলুদ, লাল রং তো আছেই; এখন ফিরোজা, কমলা, পিচ, নীলের নানা শেডও হচ্ছে। শাড়ি দেখে এর সঙ্গে মানানসই সব গয়নাই তৈরি করে দেওয়া সম্ভব”। ’
গায়েহলুদের গয়নায় এখন ভারি ভাবটা একদমই নেই। আভিজাত্যপূর্ণ ছিমছাম গয়নাই এখন চলছে। পুঁতির চল কমে গিয়ে এখন মুক্তা আর ক্রিস্টালের ব্যবহার শুরু হয়েছে। ফুলের ফাঁকে নানা রঙের মুক্তা বা ক্রিস্টাল দেখতে দারুণ লাগে। মাথার গয়না এখন কম করেই পরা হচ্ছে। শুধু একটা চওড়া টিকলি পরলেই বেশ লাগে। এক পাশে সিঁথি করে একটা ঝাঁপটা এখন ফাশনে চলছে। কানে টানা গয়নার চল আর কণ্ঠহারের মধ্যে একটা বড় ফুল ও রতনচূড়ও ভালো দেখায়। তবে পায়ে বা হাতে শুধু একটা আঙুলে আঙটি পরা হচ্ছে। অনেকে আবার বিছাও পরছেন কোমরে। শাড়ির পাড়ে মিনা বা কোনো কাজ করানো থাকলে সেই রঙের গয়না বেছে নেওয়াই ভালো। শাড়ির মূল রং নয়, বরং কম প্রাধান্য পেয়েছে এমন কোনো রঙে গয়না তৈরি করার চল এখন। আর গড়ন একটু ভারী হলে বড় একটা ফুল মাঝে রেখে গয়না তৈরি করলে ভালো দেখাবে। যেকোনো গয়নায় বড় একটা ফুল এখন এ সময়ের ট্রেন্ড। গায়েহলুদ উৎসবটাই বেশ বাহারি, নানা রঙের ছড়াছড়ি তাতে। কন্যার সাজটাও হতে হবে এমন উৎসবের সঙ্গে মানানসই। তবে বাঙালি মেয়ের ঐতিহ্যবাহী সাজ কিন্তু এমনই। কপালে লাল টিপ, হাতে-পায়ে আলতার নকশা, এক প্যাঁচে শাড়ি—এমন সাজটাই গায়েহলুদে ভালো লাগবে।
সাধারণত বিয়ের উৎসবের প্রথম অনুষ্ঠানটাই গায়েহলুদ। এর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা দরকার। অনুষ্ঠানের আগে ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি ফেসিয়াল করিয়ে নেওয়া ভালো। ফেয়ার পলিশ, ওয়্যাক্সিং, থ্রেডিং করা যায় অনুষ্ঠানের এক দিন আগে। আবার হলুদের পরই বিয়ে। তাই এরপর একটা ক্লিনিং ফেসিয়াল করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এক দিন সময় থাকলে করে নেয়া যায় অ্যারোমা ম্যাসাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>